Create a Joomla website with Joomla Templates. These Joomla Themes are reviewed and tested for optimal performance. High Quality, Premium Joomla Templates for Your Site

সবার জন্য শুভকামনা : মোহাম্মদ কায়কোবাদ

“এর মাধ্যমে আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রোগ্রামিং এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ঈর্ষনীয় পরিমানে বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাঁদের শ্রেয়তর প্রারম্ভিক দক্ষতার ফলে এসিএম প্রতিযোগিতায় আরো বড় মাপের সাফল্যও নিয়ে আসবে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার রূপকল্পের জন্য এটাই হবে শ্রেষ্ঠ উদ্যোগ।”

বিগত দুই দশক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, গণিত অলিম্পিয়াড, ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড, পদার্থ বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের অলিম্পিয়াড বাংলাদেশে শিক্ষানুকূল সংস্কৃতি  তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সিকি শতাব্দীতে নানা  প্রতিযোগিতার বিশ্ব আসরে আমাদের অংশগ্রহণ থাকলেও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আমাদের পতাকা সংশ্লিষ্ট আসরে ওড়েনি যদিও আমাদের দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দক্ষতা। এসকল দক্ষতা  দিয়ে প্রায়  প্রাকৃতিক সম্পদ শূন্য জাপান সবচেয়ে উন্নত জাতির মর্যাদা পেয়েছে তাও আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে এসে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ প্রতিবছর তথ্য প্রযুক্তির রপ্তানি বাজার থেকে শত বিলিয়ন ডলার আয় করছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের অর্জন এক্ষেত্রে  বলার মত নয়। অন্যপক্ষে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিশেষ করে ভারতের তুলনায় ঈর্ষনীয়। গতবছর আমাদের শাহজালাল ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ভারতের প্রোগ্রামিঙয়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী সাতটি (সবগুলো)  বিশ্ববিদ্যালয় দলের উপরে ছিল। গত বছর আমাদের গণিত অলিম্পিয়াড দলও ভারতের দলের থেকে শ্রেয়তর র‍্যাঙ্কিং পেয়েছে। ২০০৯ সালে আমাদের আবীরুল ইসলাম ভারতের চার  এবং শ্রীলংকার তিন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে দেশের জন্য ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড থেকে প্রথম রৌপ্য পদক অর্জন করে। ২০১২ সালে আমাদের বৃষ্টি সিকদার সারা পৃথিবীর মেয়েদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসাবে ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড থেকে পুরস্কার পেয়েছে।

আমাদের স্কুলকলেজের ছেলে মেয়েরা সাফল্যের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।  ২০০৫ সালে আমাদের স্কুলকলেজের ছেলেদের দল আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দলওকে পিছনে ফেলেছিল। আমাদের উদ্যোগী তথ্য ও যোাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মহেদয়ের উৎসাহে সারা দেশব্যাপী হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রোগ্রামিং এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ঈর্ষনীয় পরিমানে বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাঁদের শ্রেয়তর প্রারম্ভিক দক্ষতার ফলে এসিএম প্রতিযোগিতায় আরো বড় মাপের সাফল্যও নিয়ে আসবে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার রূপকল্পের জন্য এটাই হবে শ্রেষ্ঠ উদ্যোগ।

হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি ।

মোহাম্মদ কায়কোবাদ
অধ্যাপক, সিএসই বিভাগ, ডীন ইইই অনুষদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং
ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমী অব সায়েন্সেস