Create a Joomla website with Joomla Templates. These Joomla Themes are reviewed and tested for optimal performance. High Quality, Premium Joomla Templates for Your Site

কী আনন্দ ঘরে ঘরে : মুহম্মদ জাফর ইকবাল

“মজার ব্যাপার হচ্ছে যখন আমি অন্য কিছুই করতে পারি না তখনো কিন্তু আমি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করতে পারি। তার মানে আমার মস্তিষ্কটা কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে পরিশ্রম হিসেবে ধরে না। এটাকে বিনোদন হিসেবে ধরে।”

যে কোনো হিসেবেই আমার জীবনটা খুবই কঠিন। সবসময়েই আমার কিছু না কিছু করতে হয়। কোনো কাজ নেই তাই পায়ের ওপরে পা তুলে দিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে জোছনা কিংবা বৃষ্টি দেখছি শেষবার কখন এটা ঘটেছে মনে করতে পারি না। কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে ক্লান্তি চলে আসে তখন পরীক্ষার খাতা দেখতে পারি না, ক্লাস লেকচার রেডি করতে পারি না। কোনো একটা সমস্যার হিসেবপত্র করতে পারি না। লিখতে পারি না এমন কী পড়তেও পারি না। এক কথায় মস্তিষ্কটা বিদ্রোহ করে বসে। আমাকে জানিয়ে দেয় সে এখন কিছু করতে রাজী নয়। তাকে বিশ্রাম দিতে হবে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে যখন আমি অন্য কিছুই করতে পারি না তখনো কিন্তু আমি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করতে পারি। তার মানে আমার মস্তিষ্কটা কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে পরিশ্রম হিসেবে ধরে না। এটাকে বিনোদন হিসেবে ধরে। এর কারণটা কী আমি ভালো করে জানি না। তবে আমার ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কিংবা পিএইচডি করার সময় গবেষণার অংশ হিসেবে অনেক ধলনের প্রোগ্রামিং করতে হয়েছে।তখন সেটি ছিল চাপ। এখন আমার কোনো প্রোগ্রামিং করার প্রয়োজন নেই যখন করি সখে করি। সখের কিছু করায় কোনো চাপ নেই। কোনো পরিশ্রম নেই আছে শুধু আনন্দ।
আনন্দটা কী রকম তার একটা উদাহরণ দিই। সুডোকু সমাধান করতে আমার খুব মজা লাগে। যত কঠিন তত মজা। হঠাৎ একটা সুডোকু সমস্যা পেলাম যেটা আসলে যুক্তি দিয়ে সমাধান করা যায় না। ভিন্ন ভিন্নভাবে চেষ্টা করে দেখে সমাধান করতে হবে। তখন বিরক্ত হয়ে সুডোকু সমাধানের একটা প্রোগ্রাম লিখেছি। এখন আর সুডোকু সমাধান করতে উৎসাহ পাই না। ঠিক সে রকম আমি অবাক হয়ে দেখি ছোট ছোট বাচ্চা কয়েক সেকেন্ডে রুবিকস কিউব সমাধান করে ফেলে। আমি যত চেষ্টা করি সমাধান তো হয়ই না বরং যেখান থেকে শুরু করেছি তার থেকে জটিল অবস্থায় পৌঁছে যায়। তাই একদিন বসে বসে রুবিকস কিউবের জন্য একটা প্রোগ্রাম লিখেছি। দাবা খেলায় আমি মোটেও এক্সপার্ট নই। তাই একদিন দাবা খেলার একটা প্রোগ্রাম লিখেছি। একটা ছোট বয়সেও সেই প্রোগ্রামটাকে হারিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু তবুও তো আমার প্রোগ্রামটা নিয়ম মেনে দাবা খেলে। সেটা কম কী? কিছুদিন আগে সাধারণ প্রিন্টার দিয়ে করিয়েছি। বাংলা লেখাকে ব্রেইলে পাল্টে দিয়ে সেটা এখন ব্রেইল প্রিন্ট করতে পারে। প্রোগ্রামিংটা আমি নিজেই করেছি। ইন্টারফেসের জটিল একটা অংশ আমার একজন ছাত্র করে দিয়েছে। তবে আমি ভুলেও আমার ছাত্রছাত্রীদের আমার প্রোগ্রামিংয়ের কোড দেখতে দিই না। কারণ তারা যদি সেটা দেখে তাহলে হাসতে হাসতে মারা যাবে। সেগুলো এত হাস্যকর এত ছেলেমানুষী।
আমি প্রোগ্রামিং শিখেছি প্রায় ৩০ বছর আগে। এখন সেই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার হয় বলে মনে হয় না। নতুন নতুন ল্যাংগুয়েজ বের হয়েছে, আমি তার কিছুই জানি না। সেই সব ল্যাংগুয়েজের মাত্র চার-পাঁচটা সিনটেক্স আমি কোনোভাবে আমার ছাত্রদের কাছ থেকে শিখে নিয়েছি। আমি সেগুলো দিয়েই আমার প্রোগ্রামিং করি। প্রোগ্রামিং করার কত নিয়মকানুন আছে, কায়দাকানুন আছে, কত রকম আধুনিক পদ্ধতি আছে, আমি তার কিছুই জানি না। ঘুরে-ফিরে শুধু চার-পাঁচটা লাইন ব্যবহার করে আমি আমার নিজের জন্য অনেক মজার মজার কাজ করেছি। আমি নিশ্চিত আরও অনেক করব। বিনোদনের এর থেকে মজার কিছু আছে বলে আমার জানা নেই।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল
অধ্যাপক, কম্পিউটার কৌশল বিভাগ ও বিভাগীয় প্রধান, ইইই বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়